/
হোম › ক্রীড়া সংবাদ › প্রতিবেদন
ভাষা / Language:

খারাপ দিন ক্যারিয়ার নির্ধারণ করে না: নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচজেতানো স্পেলের পর কম্বোজ

অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১০ ওভারে ২২ রানে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন আনশুল কম্বোজ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে কঠিন অভিষেকের পর কীভাবে মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন, ম্যাচ শেষে সেই অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এই ভারতীয় স্পিনার।
খারাপ দিন ক্যারিয়ার নির্ধারণ করে না: নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচজেতানো স্পেলের পর কম্বোজ
এআই-নির্মিত প্রতীকী ছবি
সারসংক্ষেপ: মূল ৩ তথ্য
•
কী ঘটেছে: নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ওয়ানডেতে ১০ ওভারে ২২ রানে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন ভারতীয় অফ-স্পিনার আনশুল কম্বোজ।
•
ম্যাচের প্রভাব: অভিষেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ৮২ রান দেওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের পরিপক্বতা ও মানসিক দৃঢ়তা প্রমাণ করেছেন তিনি।
•
সামনে কী: পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ভারত ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে পরবর্তী ম্যাচে মাঠে নামবে।

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে অনুষ্ঠিত প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে ১০ ওভারে ২২ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলে নিয়ে ভারতের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ভারতীয় অফ-স্পিনার আনশুল কম্বোজ। বাঁহাতি ব্যাটার মিচেল স্যান্টনার ও নাথান স্মিথকে সাজঘরে ফেরানোর পাশাপাশি পুরো স্পেলে ৪৬টি ডট বল করেন তিনি। তার ২.২০ ইকোনমি রেটের নিয়ন্ত্রিত বোলিং নিউজিল্যান্ডকে ৪০.২ ওভারে ১৮৫ রানে গুটিয়ে দিতে সাহায্য করে। বৃষ্টির কারণে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে পাওয়া ১৪৩ রানের সংশোধিত লক্ষ্য ভারত ৩২ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে টপকে যায় এবং পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। ম্যাচজয়ী এই পারফরম্যান্সের জন্য কম্বোজ প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মাধ্যম ক্রিকট্র্যাকার এক প্রতিবেদনে তার এই অসাধারণ প্রত্যাবর্তন ও মানসিক দৃঢ়তার কথা প্রকাশ করেছে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কম্বোজের শুরুটা অবশ্য এতটা সহজ ছিল না। অকল্যান্ডের এই সাফল্যের ঠিক এক মাস আগে নিউ চণ্ডীগড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ওয়ানডে অভিষেক হয়েছিল তার। সেই ম্যাচে তার অভিজ্ঞতা ছিল বেশ তিক্ত। ৯ ওভার বল করে কোনো উইকেট না পেয়ে তিনি ৮২ রান খরচ করেছিলেন, যেখানে ক্যারিবীয় ব্যাটার শাই হোপ ৩১ বলে ৪২ রান সংগ্রহ করেছিলেন তার ওভারগুলো থেকে। সেই কঠিন অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে অকল্যান্ডে ম্যাচসেরা হওয়ার এই রূপান্তর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার দ্রুত পরিপক্বতা ও মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার স্পষ্ট প্রমাণ দেয়।

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে নিজের ক্যারিয়ারের সূচনালগ্নের ধাক্কা সামলে ওঠার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে কম্বোজ জানান, একটি বা দুটি খারাপ পারফরম্যান্স কোনো ক্রিকেটারের সম্ভাবনা নির্ধারণ করতে পারে না। তিনি বলেন, "যদি কেউ কোনো ম্যাচে হেরে যায় বা খারাপ করে, তবে সেটি তার ক্যারিয়ারের ভালো বা খারাপ নির্ধারণ করে না। আমি প্রথম থেকেই যা করছিলাম, এখনো ঠিক সেটাই করে যাচ্ছি। তাই একটা খেলায় খারাপ করা আমার ওপর খুব বেশি প্রভাব ফেলেনি। আমি কেবল আরও ভালো করার এবং ক্রমান্বয়ে নিজেকে উন্নত করার প্রেরণা পেয়েছি।"

বাহ্যিক আলোচনা ও গণমাধ্যমের প্রতিক্রিয়ার চেয়ে নিজের পারফরম্যান্সের দিকেই নজর দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেন এই ভারতীয় ক্রিকেটার। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে মানুষ তার সম্পর্কে কী ভাবছে তা নিয়ে ভেবে তিনি সময় নষ্ট করেন না। কম্বোজের মতে, "আমি এসব বিষয়ে খুব বেশি মনোযোগ দেই না। আমি আমার ক্রিকেটে মনোযোগ দেই এবং দেখি কীভাবে এর উন্নতি করা যায়। আমার সম্পর্কে মানুষ কী ভাবল বা কী বলল, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। তাই এটি আমার জন্য বড় কোনো তফাৎ তৈরি করে না।"

### ইডেন পার্কে মানিয়ে নেওয়ার লড়াই ও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন

অকল্যান্ডের ইডেন পার্কের তুলনামূলক ছোট সীমানা নিয়ে বোলারদের মধ্যে উদ্বেগ থাকলেও কম্বোজ পিচের আচরণ বিশ্লেষণ করে নিজের বোলিং কৌশল নির্ধারণ করেছিলেন। সীমানার দৈর্ঘ্যের চেয়ে উইকেটের সুবিধা নেওয়াই ছিল তার মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, "আমি ফলাফল নিয়ে ভাবিনি। সঠিক জায়গায় বল করতে পারলে উইকেটে অনেক সুবিধা মিলছিল। ভারতেও ছোট মাঠ রয়েছে, তাই সীমানার আয়তন খুব একটা বড় তফাৎ গড়ে না। উইকেট দেখলে বুঝে নিতে হয় কীভাবে বল করা দরকার। সীমানা দেখা লাগে কেবল তখনই, যখন পিচ থেকে কোনো সাহায্য পাওয়া যায় না।"

নিজের বোলিং দর্শনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, "প্রতিবার সঠিক জায়গায় বল করলেই যে রান উঠবে না, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই ফলাফলের কথা চিন্তা না করে কেবল নিজের বোলিং পরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়নে নজর দেওয়া উচিত। বোলিং করার সময় ব্যাটিং নিয়ে ভাবা যাবে না এবং ব্যাটিং করার সময় বোলিং নিয়ে চিন্তা করা যাবে না।"

### ধারাবাহিকতা ও ভবিষ্যৎ টেস্ট দলের সম্ভাবনা

কম্বোজের ইকোনমিক্যাল স্পেলের পাশাপাশি ভারতের বোলিং আক্রমণে অন্যান্য বোলাররাও দারুণ অবদান রাখেন। বাঁহাতি পেসার আরশদীপ সিং ৭০ রানে ৪ উইকেট এবং গুরনুর ব্রার ৪৪ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন। পরবর্তীতে রান তাড়ায় বিরাট কোহলি ৫১ বলে ১৩টি চারের সাহায্যে ৭৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ভারতের জয় নিশ্চিত করেন।

'মাঠের খবর'-এর গত ৪ নভেম্বরের আর্কাইভ রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ম্যাচের আগে অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে বৃষ্টির কারণে টস বিলম্বিত হয়েছিল এবং ভারত টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। ওই একই ম্যাচে আরশদীপ সিংয়ের চমৎকার সুইং ও নিয়ন্ত্রিত বোলিং দেখে ভারতের সাবেক অধিনায়ক সুনীল গাভাস্কার ও অজিঙ্ক রাহানে তাকে টেস্ট ক্রিকেটে অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি তুলেছিলেন। দলের পেস ও স্পিন বিভাগের সমন্বিত এই সাফল্য সিরিজে ভারতকে বেশ শক্ত অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। পাঁচ ম্যাচের এই ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ভারতীয় দল তাদের এই ধারাবাহিকতা পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও ধরে রাখতে চাইবে।

প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন:
WhatsApp Facebook X (Twitter)