দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজ নিষ্পত্তিকারী কেপটাউন টেস্টের আগে নিজেদের স্কোয়াডে দুটি বড় পরিবর্তন এনেছে অস্ট্রেলিয়া। টিম ম্যানেজমেন্ট টপ অর্ডার ব্যাটার নিক ম্যাডিনসন এবং ব্যাকআপ উইকেটকিপার স্যাম হারপারকে সফরকারী দল থেকে রিলিজ করে দিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্পোর্টস পোর্টাল ক্রিকট্র্যাকার। আগামী ২৭ থেকে ৩১ অক্টোবর কেপটাউনের নিউল্যান্ডসে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শুরু হবে।
তিন ম্যাচের এই লাল বলের সিরিজটি বর্তমানে ১-১ ব্যবধানে সমতায় রয়েছে। সিরিজের প্রথম টেস্টে দুর্দান্ত ক্রিকেট উপহার দিয়ে অস্ট্রেলিয়া ২১৪ রানের বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছিল। তবে দ্বিতীয় টেস্টেই ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রোটিয়ারা ইনিংস ও ৩১ রানের এক বিশাল ব্যবধানে অজিদের পরাস্ত করে সিরিজে সমতা ফেরায়। ফলে নিউল্যান্ডসের এই শেষ ম্যাচটিই এখন দুই দলের জন্য ট্রফি জয়ের একমাত্র মঞ্চ।
দলে এই রিলিজের সিদ্ধান্ত এসেছে মাঠের খবর-এর ২৬ অক্টোবর ২০২৬-এর আগের প্রতিবেদনের ধারাবাহিকতায়, যেখানে দ্বিতীয় টেস্টে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর অজি ড্রেসিংরুমে দল নির্বাচন নিয়ে ঝড়ের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। ওই ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া মাত্র ৯৯ রানে অলআউট হয়ে যায়, যা সফরকারীদের টপ অর্ডারের দুর্বলতা স্পষ্ট করে তোলে এবং নির্বাচকদের বাধ্য করে ওপেনিং জুটিতে বড় ধরনের রদবদল আনতে।
৩৪ বছর বয়সী ওপেনার নিক ম্যাডিনসনের স্কোয়াড থেকে বাদ পড়ার মূল কারণ তার সাম্প্রতিক বাজে ফর্ম। প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে অপ্রত্যাশিতভাবে জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার পর থেকে খেলা চারটি ইনিংসে তিনি মাত্র একবারই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে সক্ষম হন। টেস্ট দলের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এই ধরনের পারফরম্যান্স বজায় রাখা সম্ভব ছিল না। তাই নির্বাচকরা তাকে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যেখানে তিনি নিউ সাউথ ওয়েলসের হয়ে হোবার্টে তাসমানিয়ার বিরুদ্ধে শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচে মাঠে নামবেন।
ম্যাডিনসন ছিটকে যাওয়ায় কেপটাউনে ওপেনিং পজিশনে প্রথম পছন্দ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন ম্যাথিউ রেনশ। রেনশকে সফরকারী স্কোয়াডে রেখে দেওয়ার মাধ্যমে টিম ম্যানেজমেন্ট পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে যে, নিউল্যান্ডসে ব্যাটিংয়ের সূচনা করার দৌড়ে তিনিই সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। রেনশর অন্তর্ভুক্তিতে অজিদের শীর্ষ সারির ব্যাটিংয়ে একটি নতুন ও শক্তিশালী জুটি গড়ে তোলার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ব্যাকআপ উইকেটকিপার স্যাম হারপারকে মূলত প্রথম পছন্দের কিপার অ্যালেক্স ক্যারির কভার হিসেবে দলে রাখা হয়েছিল। প্রথম সারির অপর উইকেটকিপার জশ ইংলিসের আঙুল ভেঙে যাওয়ায় হারপারকে জরুরি বিকল্প হিসেবে স্কোয়াডে যুক্ত করা হয়। তবে ইংলিস চোট কাটিয়ে পুরো ফিট হয়ে স্কোয়াডে ফেরায় হারপারের উপস্থিতি আর প্রয়োজন ছিল না। ফলে তাকেও ঘরোয়া ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার হয়ে কুইন্সল্যান্ডের বিরুদ্ধে গাব্বায় শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচে অংশ নিতে পাঠানো হয়েছে।
### দলের সমীকরণ ও একাদশ নির্বাচনের চাপ
ওপেনিং কম্বিনেশনের বাইরেও অস্ট্রেলিয়ার চূড়ান্ত একাদশ গঠনে কিছু বড় ফিটনেস ও কৌশলী সিদ্ধান্ত বাকি রয়েছে। দলের প্রধান ব্যাটার স্টিভ স্মিথ ঘাড়ে অস্বস্তি অনুভব করায় ম্যাচের আগের দিন অনুশীলনে গুরুত্বপূর্ণ ফিটনেস পরীক্ষার মুখোমুখি হবেন। তবে অজি ম্যানেজমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে একাদশে সুযোগ পাওয়ার ব্যাপারে তিনি বেশ শক্ত অবস্থানেই রয়েছেন।
ইনজুরি কাটিয়ে অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন এবং উইকেটকিপার-ব্যাটার জশ ইংলিসের একযোগে প্রত্যাবর্তন দলটিকে স্বস্তি দিয়েছে। তবে তাদের প্রত্যাবর্তনে সেরা একাদশে জায়গা পাওয়ার লড়াই আরও তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে রানখরায় থাকা অভিজ্ঞ ব্যাটার মার্নাস লাবুশেনের ওপর একাদশে নিজের স্থান ধরে রাখার বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা দলও চোটজনিত সমস্যায় ভুগছে। মাঠের খবর-এর ২৫ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, চোটের কারণে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছেন প্রোটিয়াদের তারকা পেসার আনরিখ নর্কিয়া। দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে বোলিং করার সময় কুঁচকির চোটে পড়েন ৩২ বছর বয়সী এই পেসার, যা দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আক্রমণকে কিছুটা দুর্বল করেছে।
সিরিজের ভাগ্য নির্ভর করছে কেপটাউনের কন্ডিশনের ওপর। নিউল্যান্ডসের উইকেট দুই দলের ব্যাটারদের জন্যই কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারে। তাই টসের আগেই নিজেদের সেরা ও সবচেয়ে শক্তিশালী একাদশ চূড়ান্ত করতে মরিয়া প্যাট কামিন্সের দল।
তৃতীয় টেস্টের জন্য অস্ট্রেলিয়ার ঘোষিত ১৬ সদস্যের স্কোয়াড: প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), স্কট বোল্যান্ড, অ্যালেক্স ক্যারি, কুপার কনোলি, ক্যামেরন গ্রিন, জশ হ্যাজলউড, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস, ম্যাথিউ কুহনেম্যান, মার্নাস লাবুশেন, নাথান লায়ন, মাইকেল নেসার, ম্যাথিউ রেনশ, স্টিভ স্মিথ, মিচেল স্টার্ক এবং বো ওয়েবস্টার।
কেপটাউনের ঐতিহাসিক মাঠে শেষ লড়াইয়ে নামার আগে ম্যাডিনসনকে বাদ দেওয়ার মাধ্যমে ব্যাটিং লাইনআপে স্থিতিশীলতা আনার স্পষ্ট বার্তা দিল অস্ট্রেলিয়া। এখন রেনশ ও চোট থেকে ফেরা তারকারা চাপের মুখে কেমন পারফর্ম করেন, তার ওপরই নির্ভর করছে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে অজিদের টেস্ট সিরিজ জয়ের ভাগ্য।