/
হোম › ক্রীড়া সংবাদ › প্রতিবেদন
ভাষা / Language:

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের মিশনে অস্ট্রেলিয়া, জশ ইংলিসের সেঞ্চুরির পর সুবিধাজনক অবস্থানে প্যাট কামিন্সের দল

সূত্র: Hindustan Times Cricket (মূল প্রতিবেদন →) • এআই-সহায়তায় বাংলায় প্রস্তুত, সম্পাদকীয় নীতি

হিন্দুস্থান টাইমস ক্রিকেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তৃতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে জশ ইংলিসের চমৎকার সেঞ্চুরি এবং মিচেল স্টার্কের ধারালো বোলিংয়ের সুবাদে জয়ের সুবাস পাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। দিনশেষে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে চার উইকেট হারিয়ে ১৪০ রান সংগ্রহ করেছে এবং তারা সামগ্রিকভাবে মাত্র ৪০ রানে এগিয়ে রয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের মিশনে অস্ট্রেলিয়া, জশ ইংলিসের সেঞ্চুরির পর সুবিধাজনক অবস্থানে প্যাট কামিন্সের দল
এআই-নির্মিত প্রতীকী ছবি
সারসংক্ষেপ: মূল ৩ তথ্য
•
কী ঘটেছে: দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তৃতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে জশ ইংলিসের সেঞ্চুরি ও মিচেল স্টার্কের বোলিংয়ের সুবাদে অস্ট্রেলিয়া সিরিজ জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে।
•
ম্যাচের প্রভাব: দ্বিতীয় দিন শেষে এক রানের লিড নেওয়ার পর অস্ট্রেলিয়া তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে দক্ষিণ ব্যবসাকে ১৪০ রানে চার উইকেট ফেলতে বাধ্য করে চালকের আসনে রয়েছে।
•
সামনে কী: চতুর্থ ও শেষ দিনে দক্ষিণ আফ্রিকার ৪০ রানের লিডের জবাবে বাকি ছয় উইকেট দ্রুত তুলে নিয়ে সিরিজ জয় নিশ্চিত করতে মাঠে নামবে অস্ট্রেলিয়া।

হিন্দুস্থান টাইমস ক্রিকেটের প্রতিবেদন অনুসারে, নিউল্যান্ডসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তৃতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে সিরিজ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দারুণভাবে এগিয়ে চলেছে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচের এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এসে পেসার মিচেল স্টার্কের জোড়া আঘাত এবং অফ স্পিনার নাথান লায়নের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাধারী দক্ষিণ আফ্রিকাকে রীতিমতো বিপদে ফেলে দিয়েছে। তৃতীয় দিন শেষে দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে চার উইকেটের বিনিময়ে ১৪০ রান তুলতে সক্ষম হয়েছে। এর ফলে তারা প্রথম ইনিংসের ঘাটতি পুষিয়ে মাত্র ৪০ রানে এগিয়ে রয়েছে এবং তাদের হাতে এখন কেবল ছয়টি উইকেট সুরক্ষিত আছে।

প্রথম ইনিংসে ছয়টি উইকেট শিকার করা অস্ট্রেলীয় পেসার মিচেল স্টার্ক দ্বিতীয় ইনিংসেও দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের প্রথম ইনিংসের ঘাটতি পুরোপুরি মেটানোর আগেই স্টার্ক সাজঘরে ফেরান ওপেনার এইডেন মার্করাম এবং মারকুটে ব্যাটার মার্কেস অ্যাকারম্যানকে। দিন শেষের ঠিক আগের ওভারে অফ স্পিনার নাথান লায়ন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক তেম্বা বাভুমাকে বোল্ড করে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান। বাভুমা তখন ব্যক্তিগত ৩৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন এবং তার এই আউটের ফলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান রানার্সআপ বা শিরোপাধারী দলটি গভীর সংকটের মধ্যে পড়ে যায়।

দিনের খেলা শুরুর ঠিক আগে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস শেষ হয় ৪২৯ রানে। দিনের শুরুতে তাদের সংগ্রহ ছিল চার উইকেটে ৩৩০ রান, যেখান থেকে বাকি ছয়টি উইকেট হারাতে তাদের যোগ করতে হয় মাত্র ৯৯ রান। আগের দিন অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়া ব্যাটার জশ ইংলিস তার টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করতে সক্ষম হন। এর আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজের টেস্ট অভিষেক সিরিজেও তিনি ঠিক একই ১০২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। প্রথম দিনের অপরাজিত স্কোরের সঙ্গে আরও ৪০ রান যোগ করে অস্ট্রেলিয়া শেষ পর্যন্ত এই সংগ্রহ দাঁড় করায়।

সেঞ্চুরি পূরণের পথে জশ ইংলিস এবং অ্যালেক্স কেরির পঞ্চম উইকেটে একটি চমৎকার ১৮৫ রানের জুটি গড়ে ওঠে। ইংলিস মাত্র ১৩২ বলে নিজের শতরান পূর্ণ করেন, যখন তিনি অফ স্পিনার সাইমন হারমারকে রিভার্স সুইপ করে বাউন্ডারি হাঁকান। তবে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি, কারণ এর ঠিক তিন বল পর হারমারের বলেই উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান তিনি। এর চার ওভার পর অ্যালেক্স কেরিও হারমারের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট হন, যিনি এই ইনিংসে দলের জন্য ৮০ রানের একটি অত্যন্ত মূল্যবান ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন।

প্রথম ইনিংসে ১০০ রানের পিছিয়ে থেকে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। ওপেনার এইডেন মার্করাম মাত্র এক রান করে স্টার্কের বলে মিড অফে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। এরপর ডেভিড বেডিংহাম এই ম্যাচে দ্বিতীয়বারের মতো হুক শট খেলতে গিয়ে ব্যর্থ হন। জশ হ্যাজলউডের বলে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে মাত্র ১১ রান করে আউট হন তিনি। প্রথম ইনিংসে ৯৫ রান করা বাঁহাতি ব্যাটার মার্কেস অ্যাকারম্যান দ্বিতীয় ইনিংসেও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

### দক্ষিণ আফ্রিকার লড়াই ও স্টার্কের বিধ্বংসী বাউন্সার

অধিনায়ক তেম্বা বাভুমার সঙ্গে মার্কেস অ্যাকারম্যান তৃতীয় উইকেটের জুটিতে ৬৪ রান যোগ করে প্রাথমিক চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা তখনও প্রথম ইনিংসের রান থেকে পাঁচ রানে পিছিয়ে ছিল, ঠিক তখনই মিচেল স্টার্ক একটি মারাত্মক বাউন্সার ছুড়ে দেন। সেই ভয়ংকর বাউন্সারে অ্যাকারম্যান ব্যাট ও হেলমেটে বল লাগিয়ে গালিতে ক্যাচ দিয়ে ৬২ রান করে আউট হন। অ্যাকারম্যানের এই বিদায়ে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে এবং অস্ট্রেলিয়া জয়ের সুবাস পেতে শুরু করে।

মাঠের খবরের আর্কাইভ এবং আমাদের আগের দিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউল্যান্ডস টেস্টের দ্বিতীয় দিনে জশ ইংলিস এবং অ্যালেক্স কেরির অনবদ্য অপরাজিত জুটি অস্ট্রেলিয়াকে চালকের আসনে বসিয়েছিল। ইনজুরিতে আক্রান্ত স্টিভেন স্মিথের অনুপস্থিতিতে সুযোগ পেয়ে ইংলিস অসাধারণ পারফরম্যান্স উপহার দেন। দ্বিতীয় দিন শেষে অস্ট্রেলিয়া ৩৩০ রান সংগ্রহ করে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসের ৩২৯ রানের স্কোরের ওপরে এক রানের লিড নিয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় তৃতীয় দিনেও অস্ট্রেলীয় ব্যাটাররা নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন।

ম্যাচের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করলে দেখা যায়, চতুর্থ ও শেষ দিনে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনআপের ওপর প্রচণ্ড চাপ থাকবে। মাত্র ৪০ রানের স্বল্প লিড নিয়ে ক্রিজে টিকে থাকা স্বাগতিকদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে। অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা যেভাবে নিখুঁত লাইন ও লেংথ বজায় রেখে বল করে যাচ্ছেন, তাতে প্রোটিয়াদের লোয়ার অর্ডার ব্যাটারদের পরীক্ষা দিতে হবে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এই গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়া এখন স্পষ্টতই ফেভারিট হিসেবে চতুর্থ দিনে মাঠে নামবে।

সিরিজের এই টার্নিং পয়েন্টে এসে অস্ট্রেলীয় শিবির আত্মবিশ্বাসে ভরপুর রয়েছে। প্রথম ইনিংসে বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং দ্বিতীয় ইনিংসে স্টার্ক ও লায়নের সাফল্য দলকে জয়ের বন্দরের খুব কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। মাঠের খবরের পাঠকদের জন্য এটি স্পষ্ট যে, চতুর্থ দিনের শুরুতেই যদি অস্ট্রেলিয়া দ্রুত বাকি উইকেটগুলো তুলে নিতে পারে, তবে সিরিজটি নিজেদের পকেটে পুরতে তাদের খুব বেশি বেগ পেতে হবে না। দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটারদের ওপর এখন কেবল টিকে থাকার কঠিন লড়াই অর্পিত হয়েছে।

প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন:
WhatsApp Facebook X (Twitter)