/
হোম › ক্রীড়া সংবাদ › প্রতিবেদন
ভাষা / Language:

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের শেষ টেস্টের আগে স্টিভ স্মিথের ফিটনেস নিয়ে আশাবাদী অস্ট্রেলিয়া

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান (মূল প্রতিবেদন →) • এআই-সহায়তায় বাংলায় প্রস্তুত, সম্পাদকীয় নীতি

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কেপ টাউনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টের আগে দলের অভিজ্ঞ ব্যাটার স্টিভ স্মিথকে ফিটনেস প্রমাণ করার জন্য সর্বোচ্চ সময় দিচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক প্যাট কামুনস। জেকেবারহতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টে ঘাড়ে চোট পাওয়ার পর এবার নিউল্যান্ডসে মাঠে ফেরার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন এই ব্যাটার।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের শেষ টেস্টের আগে স্টিভ স্মিথের ফিটনেস নিয়ে আশাবাদী অস্ট্রেলিয়া
এআই-নির্মিত প্রতীকী ছবি
সারসংক্ষেপ: মূল ৩ তথ্য
•
কী ঘটেছে: দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কেপ টাউন টেস্টের আগে স্টিভ স্মিথের ফিটনেস নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং দলে পরিবর্তন।
•
ম্যাচের প্রভাব: সিরিজের ১-১ সমতার মাঝে দলের ব্যাটিং শক্তি ও কম্বিনেশনে বড় প্রভাব ফেলবে।
•
সামনে কী: নিউল্যান্ডসে সিরিজের ফাইনালে স্মিথের খেলা এবং লাবুশেনের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করছে ম্যাচের ভাগ্য।

দ্য গার্ডিয়ান ক্রিকেট প্রকাশিত প্রতিবেদনা অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কেপ টাউনে শুরু হতে যাওয়া সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টের আগে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার স্টিভ স্মিথকে ফিটনেস প্রমাণের জন্য পর্যাপ্ত সময় দিতে চান অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। গত সপ্তাহে জেকেবারহতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ইনিংস ও ৩১ রানের ব্যবধানে পরাজয়ের শিকার হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। সেই ম্যাচে গতির লড়াইয়ে কিংবা ফিল্ডিংয়ের সময় ঘাড়ে চোট পেয়েছিলেন স্মিথ। এই হারের ফলে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজটি ১-১ সমতায় ফিরেছে, যা মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে যাওয়া কেপ টাউনের নিউল্যান্ডস টেস্টকে রূপ দিয়েছে অঘোষিত ফাইনালে।

দলের প্রধান এই ব্যাটারকে নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অধিনায়ক প্যাট কামিন্স জানিয়েছেন যে তারা স্মিথকে নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে প্রস্তুত। কামিন্স আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন যে সবকিছু ঠিক থাকলে স্মিথ একাদশে থাকছেন, তবে চূড়ান্ত দল ঘোষণার আগে তারা শেষ ধাঁধার টুকরোটি খুঁজে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। স্মিথের ফিটনেস টেস্টের ওপর নির্ভর করছে দল কেমন সাজবে, বিশেষ করে যখন দলে ইতিমধ্যে বেশ কিছু পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট।

আমাদের নিজস্ব আর্কাইভ থেকে জানা যায় যে সিরিজের এই নাটকীয় মুহূর্তে ওপেনার নিক ম্যাডিসন এবং ব্যাকআপ উইকেটকিপার স্যাম হার্পারকে স্কোয়াড থেকে ইতোমধ্যে মুক্তি দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে যে ক্যামেরন গ্রিনকে মিডল অর্ডারেই ব্যাট করানোর পরিকল্পনা রয়েছে অধিনায়কের। নিক ম্যাডিসনকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার পর এবার ট্রাভিস হেডের সঙ্গে ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে পারেন ম্যাট রেনশ। এই পরিবর্তনগুলো দলের ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধরনের রদবদল নিয়ে এসেছে।

স্টিভ স্মিথের জন্য এই কেপ টাউন টেস্টটি বহন করছে এক গভীর স্মৃতির বোঝা। ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটকে নাড়িয়ে দেওয়া বল টেম্পারিং বা স্যান্ডপেপারগেট কেলেঙ্কারির সময় তিনি দলনেতার দায়িত্বে ছিলেন, এবং এই মাঠেই তার জীবনের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায় রচিত হয়েছিল। তবে অতীতকে পেছনে ফেলে বর্তমান সফরে তিনি নিজেকে দলের জন্য পুরোপুরি নিবেদন করেছেন বলে জানিয়েছেন প্যাট কামিন্স।

অধিনায়কের মতে গত কয়েক বছর এবং বিশেষ করে গত বারো মাসে স্মিথ তার ক্রিকেট জীবন নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট রয়েছেন এবং বর্তমান সময়টাকে উপভোগ করছেন। ড্রেসিংরুমের বাইরেও তিনি দারুণ সময় কাটাচ্ছেন; প্রতিদিন সকালে গল্ফ খেলা বা কফি ক্লাবে যাওয়ার মাধ্যমে তিনি মানসিক দিক থেকে সতেজ থাকার চেষ্টা করছেন। মাঠের বাইরে দলের সবার সঙ্গে মিশে থাকা এবং মিডল অর্ডারে প্যাট কামিন্সকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে তিনি সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন।

তবে এই সফরে স্মিথের ব্যাটিং পরিসংখ্যান খুব একটা সুখকর নয়। দ্য গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সিরিজে চার ইনিংসে তার ব্যাটিং গড় সামান্য একটু বেশি কুড়ির ঘরে। প্রথম টেস্টে মাথায় আঘাত পাওয়ার পর দ্বিতীয় টেস্টে ঘাড়ে চোট পান তিনি। এতকিছুর পরেও তার ওপর আস্থা হারাচ্ছেন না অধিনায়ক কামিন্স। তিনি উল্লেখ করেছেন যে স্মিথের কার্যপদ্ধতির ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং তিনি সর্বকালের অন্যতম সেরা একজন ব্যাটার। প্রায় একশ টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারে শতভাগ ফিট না থেকেও ম্যাচ খেলার মতো পরিস্থিতি আসতেই পারে।

### মারনাস লাবুশেনের টিকে থাকা এবং নতুন সমীকরণ

স্টিভ স্মিথের ফিটনেস সংক্রান্ত আলোচনার পাশাপাশি মারনাস লাবুশেনের ফর্ম ও একাদশে তার স্থায়িত্ব নিয়ে ক্রিকেট মহলে তীব্র আলোচনা চলছে। নতুন বলের বিরুদ্ধে চাপ সামাল দেওয়ার ক্ষমতা এবং আশপাশের ব্যাটারদের সহযোগিতা করার দক্ষতার কারণে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে এই টেস্টেও লাবুশেনকে আরও একটি সুযোগ দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

তবে সেঞ্চুরি ছাড়া টানা ৪৭ ইনিংস পার করার পর লাবুশেনের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। গত নয়টি ইনিংসের মধ্যে ছয়টিতেই ত্রিশ থেকে ঊনচল্লিশ রানের মধ্যে আউট হয়েছেন এই কুইন্সল্যান্ডার। তাছাড়া গত ৩৭ টেস্টে তার ক্যারিয়ার গড় প্রথম ৩০ টেস্টের তুলনায় ঠিক অর্ধেকে নেমে এসেছে। দলের পক্ষ থেকে এই পরিসংখ্যান নিয়ে যে অসন্তোষ রয়েছে, তা গত সপ্তাহেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন প্যাট কামিন্স। তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে মাত্র ত্রিশ রানের ইনিংসগুলো দিয়ে খুব বেশি ম্যাচ জেতা সম্ভব নয়।

যদিও অস্ট্রেলিয়া দল মনে করে যে লাবুশেন ইনিংসের কঠিন সময়গুলো পার করে ভালোভাবেই ব্যাট করছেন, কিন্তু সম্ভবত ত্রিশ রানের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর তার মনে এক ধরনের মানসিক চাপ বা বাধা কাজ করছে। কামিন্স প্রশ্ন তুলেছেন যে লাবুশেনের এই লড়াই বাকি দলের খেলোয়াড়দের জন্য কতটা সহায়ক হচ্ছে এবং তা দলের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে কতটা অবদান রাখছে।

আমাদের নিজস্ব আর্কাইভের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় টেস্টে মাত্র ৯৯ রানে অলআউট হওয়ার পর ব্যাটিং অর্ডারের ভঙ্গুরতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছিল। তবে কেপ টাউনের এই সিদ্ধান্তমূলক টেস্টের প্রথম দিনে ঘুরে দাঁড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়া। মিচেল স্টার্কের মাত্র ৭২ রান খরচ করে ৬ উইকেট শিকারের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সুবাদে প্রথম দিনেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩২৯ রানে আটকে ফেলতে সক্ষম হয়েছে সফরকারীরা।

সিরিজের এই টার্নিং পয়েন্টে এখন সবার নজর নিউল্যান্ডসের উইকেটের দিকে। স্টিভ স্মিথ যদি শেষ পর্যন্ত ফিট হয়ে মাঠে নামতে পারেন, তবে তা অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটিং লাইনআপে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে। অন্যথায়, পরিবর্তিত ব্যাটিং কম্বিনেশন নিয়ে প্রোটিয়া বোলিং আক্রমণ মোকাবিলা করা কামিন্স বাহিনীর জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন:
WhatsApp Facebook X (Twitter)