/
হোম › ক্রীড়া সংবাদ › প্রতিবেদন
ভাষা / Language:

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হারের মাঝেও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে রেকর্ড গড়লেন আর্শদীপ সিং

সূত্র: Hindustan Times Cricket (মূল প্রতিবেদন →) • এআই-সহায়তায় বাংলায় প্রস্তুত, সম্পাদকীয় নীতি

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বড় ব্যবধানে হেরেছে ভারত। তবে এই ম্যাচে ব্যক্তিগত সাফল্যের দেখা পেয়েছেন বাঁহাতি পেসার আর্শদীপ সিং, যিনি পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এক পঞ্জিকাবর্ষে সবচেয়ে বেশি টি-টোয়েন্টি উইকেটের মালিক হয়েছেন।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হারের মাঝেও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে রেকর্ড গড়লেন আর্শদীপ সিং
এআই-নির্মিত প্রতীকী ছবি
সারসংক্ষেপ: মূল ৩ তথ্য
•
কী ঘটেছে: নিউজিল্যান্ডের কাছে চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে ভারতের ৮৭ রানের হার এবং আর্শদীপ সিংয়ের রেকর্ড।
•
ম্যাচের প্রভাব: এক পঞ্জিকাবর্ষে সবচেয়ে বেশি টি-টোয়েন্টি উইকেট এবং ভারতের হয়ে দেড়শ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ।
•
সামনে কী: সিরিজের বাকি ম্যাচগুলোতে উভয় দলের পারফরম্যান্স এবং কৌশলগত পরিবর্তন।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বড় ব্যবধানে হেরে গেলেও ব্যক্তিগত অর্জনে রেকর্ডবুকে নাম লিখিয়েছেন ভারতের বাঁহাতি পেসার আর্শদীপ সিং। অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদের তাণ্ডবের মুখে পড়েছিল ভারতীয় বোলিং আক্রমণ। শেষ পর্যন্ত ম্যাচে ৮৭ রানের বড় ব্যবধানে পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ভিজিটরদের। আরশদীপ সিং এই ম্যাচে মাত্র একটি উইকেট শিকার করলেও সেই এক উইকেটই তাকে পৌঁছে দেয় এক অনন্য উচ্চতায়। এই উইকেটের সুবাদে তিনি পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর বোলারদের মধ্যে এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বাধিক টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক উইকেটের মালিক হওয়ার রেকর্ড গড়েন।

হিন্দুস্থান টাইমস ক্রিকেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাচের এক পর্যায়ে আর্শদীপ সিং প্যাভিলিয়নে ফেরান নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারকে, যিনি মাত্র ৫ রান করে আউট হন। এই একটিমাত্র সাফল্যে ২০২৬ সালে আর্শদীপের মোট উইকেট সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ৪০টিতে। এর মধ্য দিয়ে তিনি পেছনে ফেলে দেন আয়ারল্যান্ডের জোশ লিটলের রেকর্ড। আইরিশ পেসার জোশ লিটল ২০২২ সালে এক পঞ্জিকাবর্ষে ৩৯টি টি-টোয়েন্টি উইকেট শিকার করে এতদিন রেকর্ডটি নিজের দখলে রেখেছিলেন। নিউজিল্যান্ডের ব্যাটাররা যখন পুরো ম্যাচজুড়ে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করে রানপাহাড় গড়ে তোলেন, ঠিক তখনই আর্শদীপ সিং এই ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করে কিছুটা স্বস্তি কুড়িয়ে নেন।

এই ম্যাচে মাঠে নামার সুবাদে আর্শদীপ সিং টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেড়শ উইকেটের মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি ভারতের প্রথম বোলার হিসেবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে দেড়শ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়লেন। মাত্র ২৭ বছর বয়সী এই পেসার অত্যন্ত দ্রুতগতির এক ডেলিভারিতে তার ক্যারিয়ারের ১৫০তম উইকেটটি তুলে নেন। পরিসংখ্যান বলছে, ১৫০তম উইকেটের দেখা পেতে আর্শদীপের লেগেছে মাত্র ২ হাজার ১৪৩টি বল। এর ফলে তিনি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সার্বিকভাবে তৃতীয় দ্রুততম বোলার এবং পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে কম বল খেলে এই মাইলফলক স্পর্শ করার রেকর্ড গড়েছেন। এর আগে পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে কম বল খেলে ১৫০ উইকেট শিকারের রেকর্ডটি ধরে রেখেছিলেন বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমান, যার লেগেছিল ২ হাজার ৫৩২ বল।

### রেকর্ডময় দিন এবং ঐতিহাসিক মাইলফলক

শুধু বলের হিসেবেই নয়, সময়ের হিসেবেও আর্শদীপ সিং গড়েছেন নতুন এক রেকর্ড। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেকের পর থেকে মাত্র ১ হাজার ৫ ৭৭ দিনের ব্যবধানে তিনি ১৫০ উইকেটের কোটায় পৌঁছান। এই অর্জনের মাধ্যমে তিনি ভেঙে দেন শ্রীলঙ্কার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার আগের রেকর্ডটি। হাসারাঙ্গা এর আগে টি-টোয়েন্টি অভিষেকের পর ২ হাজার ৩২৫ দিন সময় নিয়েছিলেন তার নির্দিষ্ট মাইলফলক স্পর্শ করতে। ফলে সময়ের মাপকাঠিতেও আর্শদীপ সিং এখন বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুততম বোলার যিনি দেড়শ টি-টোয়েন্টি উইকেটের ক্লাবে প্রবেশ করলেন।

ম্যাচের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন গ্লেন ফিলিপস। তিনি মাত্র ৪৯ বল মোকাবিলা করে ১০৭ রানের এক অবিশ্বাস্য ও ঝড়ো ইনিংস উপহার দেন। তার এই নান্দনিক ও দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের সুবাদে নিউজিল্যান্ড নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৫৯ রানের এক পাহাড়সম সংগ্রহ দাঁড় করাতে সক্ষম হয়। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভারতের বিপক্ষে এটিই যেকোনো দলের করা সর্বোচ্চ দলীয় রান। গ্লেন ফিলিপস এবং মার্ক চ্যাপম্যান কিংবা জিমি নিশাম বা ডিন ফক্সক্রফটদের মতো ব্যাটারদের পাশাপাশি রাচিন রবীন্দ্র এবং ডিন ব্রাসওয়েলদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ভারতীয় বোলারদের দিশেহারা করে তোলে। বিশেষ করে গ্লেন ফিলিপস এবং ব্রাসওয়েল পঞ্চম উইকেটে মাত্র ৪১ বলে ১১৫ রানের এক অবিস্মরণীয় জুটি গড়ে তোলেন, যা কি না কিউইদের ইনিংসকে এই বিশাল সংগ্রহে পৌঁছে দেয়। নিউজিল্যান্ডের ব্যাটাররা প্রথম বল থেকেই অল আউট অ্যাটাক বা সর্বাত্মক আক্রমণাত্মক পন্থা বেছে নিয়েছিলেন।

এমন এক মারকাটারি ও কঠিন বোলিং পরিস্থিতিতেও আর্শদীপ সিং ছিলেন ভারতের সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলার। একমাত্র বোলার হিসেবে তিনি ৯.৫ ইকোনমি রেট বজায় রাখতে সক্ষম হন। নিজের কোটার চার ওভারে ৩৮ রান খরচ করে তিনি তুলে নেন ঐ একটি মাত্র উইকেট, যা তাকে রেকর্ড বইয়ে জায়গা করে দেয়। এছাড়া ভারতীয় বোলিং লাইনআপের বাকি সবাই দুই অংকের ইকোনমি রেটে রান বিলিয়েছেন। ম্যাচের প্রথম ওভারেই উইকেট হারানোর পর ভারতীয় ব্যাটিং অর্ডার চরম চাপের মুখে পড়ে যায়।

### রান তাড়ার ব্যর্থতা এবং সমাপনী চিত্র

বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে ভারত। ইনিংসের একদম প্রথম ওভারেই সাজঘরে ফিরে যান দুই ওপেনার সঞ্জু স্যামসন ও ইশান কিষাণ। সঞ্জু স্যামসন মাত্র ৪ রান করে আউট হন এবং ইশান কিষাণ রানের খাতা খোলার আগেই গোল্ডেন ডাকে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। এত বড় লক্ষ্য সামনে রেখে প্রথম ওভারেই দুই উইকেট হারিয়ে ফেলায় ভিজিটররা শুরুতেই ব্যাকফুটে চলে যায়। এরপর দলের ইনিংস মেরামতের জন্য আর কেউ সেভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি। নিউজিল্যান্ডের ধারালো বোলিং আক্রমণের সামনে ভারতীয় ব্যাটাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকেন।

ম্যাচজুড়ে ভারতীয় দল কখনোই রান তাড়ার দৌড়ে ঠিকমতো থিতু হতে পারেনি। নির্ধারিত ২০ ওভারের খেলা শেষ হওয়ার আগে তারা ৯ উইকেটের বিনিময়ে মাত্র ১৭২ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। এর ফলে স্বাগতিকদের দেওয়া বিশাল লক্ষ্যের ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারেনি সফরকারীরা এবং শেষ পর্যন্ত ৮৭ রানের এক বিশাল ব্যবধানে পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হয়। হিন্দুস্থান টাইমস ক্রিকেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউজিল্যান্ডের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং এবং ভারতের ব্যাটিং ব্যর্থতাই এই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিয়েছে।

এই হারের ফলে ভারতীয় দলের জন্য সিরিজের সামগ্রিক চিত্র এবং পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। যদিও এর আগে প্রকাশিত মাঠের খবরের আর্কাইভ রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ম্যাচের আগে ভারত ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করেছিল এবং দলের রোটেশন পলিসির অংশ হিসেবে কুলদীপ যাদব ও বরুণ চক্রবর্তীর মতো বোলারদের একাদশে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বিবেচনা করা হচ্ছিল। তবে এই ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হারের ফলে ভারতের জয়রথ সাময়িকভাবে থামল। হিন্দুস্থান টাইমস ডেস্কের কর্মীরা সারা বছর ধরে বিশ্বজুড়ে খেলাধুলার বিস্তারিত আপডেট প্রদান করতে সচেষ্ট থাকেন এবং এই ম্যাচটি তাদের পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশদ বিশ্লেষণে স্থান পেয়েছে।

প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন:
WhatsApp Facebook X (Twitter)