ভারতের সাবেক টেস্ট অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে সনি স্পোর্টস নেটওয়ার্কের বিশেষজ্ঞ প্যানেল এবং তাঁর ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেলে তরুণ ভারতীয় অধিনায়ক শুভমান গিলের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে চলমান দ্বিপাক্ষিক সিরিজের মাঝপথেই গিলের অধিনায়কত্ব ও পরিণত আচরণের প্রশংসা করে তিনি জানান, প্রতিটি সিরিজের সঙ্গেই গিলের নেতৃত্বগুণ আরও শাণিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া বিষয়ক গণমাধ্যম ক্রিকট্র্যাকার এক বিশেষ প্রতিবেদনে রাহানের এই মূল্যায়নের বিষয়টি সামনে এনেছে।
রাহানের মতে, ২৫ বছর বয়সী এই ওপেনারের আত্মবিশ্বাস এবং মাঠে তার উপস্থিতিই তাকে অন্য সবার চেয়ে আলাদা করে তুলেছে। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে কথা বলতে গিয়ে রাহানে বলেন, "ব্যাটিংয়ের দিক থেকে শুভমানের পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। তার রেকর্ডই সব বলে দেয়। তার খেলার ধরন নিয়ে আমার সবচেয়ে ভালো লাগে তার আত্মবিশ্বাস। মাঠে তার হেঁটে আসার ভঙ্গি, মনোভাব এবং অভিপ্রায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফর্মের ওঠানামা হতে পারে, একদিন রান আসবে, অন্যদিন নাও আসতে পারে। তবে শুভমানের সেই আত্মবিশ্বাস আছে এবং সে সম্প্রতি রানও করছে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রতিটি সিরিজে অধিনায়ক হিসেবে তার উন্নতি। সে খুব পরিণতভাবে খেলোয়াড়দের পরিচালনা করছে, বোলারদের ঘোরাচ্ছে এবং সঠিক পরিবর্তন আনছে। এগুলো প্রতিটি সিরিজের সঙ্গে তার এগিয়ে যাওয়ার ভালো লক্ষণ।"
### শুভমান গিলের নেতৃত্বে মুগ্ধ অজিঙ্ক রাহানে
অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডকে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছে শুভমান গিলের নেতৃত্বাধীন ভারত। ক্রিকট্র্যাকার এবং গত ৪ নভেম্বর ২০২৬-এ 'মাঠের খবর'-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ড মাত্র ১৮৫ রানে অলআউট হয়ে যায়। ভারতের পক্ষে বাঁহাতি পেসার আরশদীপ সিং চারটি উইকেট শিকার করেন, যেখানে গুরনুর ব্রার ৪৪ রানে ৩ উইকেট এবং আনশুল কম্বোজ ২২ রানে ২ উইকেট নেন। বৃষ্টির কারণে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে ভারতের সামনে ৩২ ওভারে ১৪৩ রানের সংশোধিত লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। জবাবে বিরাট কোহলির ৭৪ রান এবং অধিনায়ক শুভমান গিলের ৫১ বলে ৫৬ রানের দায়িত্বশীল ইনিংসে ভর করে ২২.৪ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে সফরকারীরা।
নিউজিল্যান্ড সফরের এই ইতিবাচক সূচনা গিলের দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দলটির নজর শুধু এই ওয়ানডে সিরিজেই সীমাবদ্ধ নয়, সামনে থাকা দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট অর্জনের সমীকরণও তাদের মাথায় রাখতে হচ্ছে। ২০২৭ সালের আইসিসি পুরুষ ক্রিকেট বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই দ্বিপাক্ষিক সফরটি ভারতের জন্য বেশ অর্থবহ। ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে গিলের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের ৪ অক্টোবর, যখন অভিজ্ঞ রোহিত শর্মা ওয়ানডে ফরম্যাট থেকে অবসর গ্রহণ করার পর নির্বাচকরা গিলের ওপর আস্থা রেখেছিলেন। ২০২৭ বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখেই ক্রিকেট বোর্ড তাকে অনেক আগে থেকে নেতৃত্বের ব্যাটন বুঝিয়ে দেয়। এর আগে নামিবিয়া, জিম্বাবুয়ে ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজে তিনি দলকে সফলভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
### নেতৃত্বের পরিসংখ্যান ও সাম্প্রতিক ফর্মের বিশ্লেষণ
একদিনের আন্তর্জাতিক দলের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব পাওয়ার আগেই শুভমান গিল নিজের নেতৃত্বের সামর্থ্য প্রমাণ করেছিলেন। ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে ইংল্যান্ডের মাটিতে অনুষ্ঠিত দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে প্রথমবার ভারতের টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সেই রোমাঞ্চকর সিরিজটি ২-২ ব্যবধানে সমতায় শেষ হলেও গিল ব্যাট হাতে ছিলেন একছত্র অধিপতি। চার ইনিংসে ৭৫.৪০ গড়ে তিনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ৭৫ ৪ রান সংগ্রহ করেন। এর বাইরে ভারত যখন ২০২৫ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয় করে, তখন রোহিত শর্মার অধীনে সহ-অধিনায়কের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন এই ডানহাতি ব্যাটার।
বর্তমানে বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থার ওয়ানডে ব্যাটারদের র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ স্থানে অবস্থান করছেন শুভমান গিল। নিউজিল্যান্ড সফরে তিনি প্রথম তিন ওয়ানডে ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সফরের শেষ দুই ওয়ানডেতে নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করবেন শ্রেয়াস আইয়ার। অন্যদিকে, সফরকারী দলের দুই ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজে সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করবেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার কেএল রাহুল। দল পরিচালনায় এই কৌশলগত বণ্টন খেলোয়াড়দের ওপর কাজের চাপ কমানোর জন্য করা হয়েছে।
পাশাপাশি, সাবেক অধিনায়ক রোহিত শর্মার ফেরার বিষয়ে 'মাঠের খবর' গত ১ নভেম্বর ২০২৬-এ খবর প্রকাশ করেছিল যে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘরের মাঠের ওয়ানডে সিরিজ শেষে মুম্বাইয়ের হয়ে বিজয় হাজারে ট্রফিতে অংশ নেবেন ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা। এ থেকেই স্পষ্ট যে ভারতীয় দলে নেতৃত্বের যে নতুন অধ্যায় গিল শুরু করেছেন, তা জ্যেষ্ঠ তারকাদের অভিজ্ঞতার আলোতেই বিকাশ লাভ করছে।
নিউজিল্যান্ড সফরে এখনও চার টি ওয়ানডে ম্যাচ বাকি রয়েছে সফরকারী ভারতের। এরপর শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সীমিত ওভারের সিরিজের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহ্যবাহী বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিতে মুখোমুখি হবে ভারতীয় দল। প্রতিটি ম্যাচই গিলের অধিনায়কত্বের বিকাশ এবং ২০২৭ বিশ্বকাপের দল গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অজিঙ্ক রাহানেসহ ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।