/
হোম › ক্রীড়া সংবাদ › প্রতিবেদন
ভাষা / Language:

আদিল রশিদের অনুপস্থিতি এবং ইংল্যান্ডের কৌশলগত ভুল: অস্ট্রেলিয়া সফরে কি মিলবে সমাধান?

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান (মূল প্রতিবেদন →) • এআই-সহায়তায় বাংলায় প্রস্তুত, সম্পাদকীয় নীতি

পাকিস্তানে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল মিস করা ইংল্যান্ড দলে অভিজ্ঞ লেগ-স্পিনার আদিল রশিদের অনুপস্থিতি বড় প্রশ্ন তুলেছে। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে কৌশলগত ত্রুটি সত্ত্বেও সামনের অস্ট্রেলিয়া সফরে দলটির ঘুরে দাঁড়ানোর স্পষ্ট সুযোগ রয়েছে।
আদিল রশিদের অনুপস্থিতি এবং ইংল্যান্ডের কৌশলগত ভুল: অস্ট্রেলিয়া সফরে কি মিলবে সমাধান?
এআই-নির্মিত প্রতীকী ছবি
সারসংক্ষেপ: মূল ৩ তথ্য
•
কী ঘটেছে: পাকিস্তানে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনাল থেকে ছিটকে পড়েছে ইংল্যান্ড, যেখানে শেষ তিন ম্যাচে বাদ পড়েন আদিল রশিদ।
•
ম্যাচের প্রভাব: রশিদবিহীন বোলিং আক্রমণ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রেকর্ড রান তাড়া এবং পাকিস্তানের শেষ উইকেটের লড়াই আটকাতে ব্যর্থ হয়।
•
সামনে কী: সামনের অস্ট্রেলিয়া সফরে আদিল রশিদ এবং বিশ্রাম শেষে জোফরা আর্চারের ফেরা ইংল্যান্ডের বোলিং ভারসাম্য পুনরুদ্ধার করতে পারে।

পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে হ্যারি ব্রুকের নেতৃত্বাধীন ইংল্যান্ড। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে সাংবাদিক তাহা হাশিম উল্লেখ করেছেন যে, পাকিস্তানের মাটিতে ইংল্যান্ডের এই ছিটকে পড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় বিস্ময় ছিল অভিজ্ঞ লেগ-স্পিনার আদিল রশিদের টানা তিনটি ম্যাচে একাদশের বাইরে থাকা। টানা চারটি ওয়ানডে সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে সফর শুরু করা ইংলিশরা শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে প্রায় জেতা অবস্থান থেকেও ম্যাচ হেরেছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রেকর্ড ৪২৯ রান তুলেও পরাজয় বরণ করতে হয়েছে দলটিকে, যেখানে অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক ওয়ানডে ইতিহাসে প্রথম ব্যাটার হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েও পরাজিত দলের সদস্য হওয়ার তিক্ত স্বাদ পান। এর তিন দিন পরই পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে স্বাগতিকরা যখন ১৫৪ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল, তখনও একটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ শেষ করতে ব্যর্থ হয় ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণ।

### রশিদের বাদ পড়া এবং বোলিং ভারসাম্যের টানাপোড়েন

শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ দিকের এই নাটকীয় ব্যর্থতার পেছনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে আদিল রশিদের অনুপস্থিতি। গত এক দশকে ইংল্যান্ডের হয়ে ওয়ানডে ফরম্যাটে রশিদের চেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেননি আর কোনো বোলার। গ্রীষ্মের শেষে হাতের ইনজুরি কাটিয়ে ফিরলেও পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে রান খরচের পর তাকে পরবর্তী তিন ম্যাচের জন্য একাদশ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ইংলিশ কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম দাবি করেছেন যে কন্ডিশন সম্ভবত রশিদের নির্বাচনের বিপক্ষে গিয়েছিল। টিম ম্যানেজমেন্ট পাকিস্তানের আরাফাত মিনহাজের সাফল্য দেখে কিছুটা স্কিডি বাঁহাতি স্পিনার লিয়াম ডসনকে অগ্রাধিকার দেয়। ডসন অবশ্য বল হাতে সফল ছিলেন; তিনি ২১.৪২ গড়ে এবং ৫ ইকোনমি রেটে টুর্নামেন্টে ৭টি উইকেট শিকার করেছেন। মাঠের খবরের ৩১ অক্টোবরের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, লাহোরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সান্ত্বনাসূচক শেষ ম্যাচে বেন ডাকেটের ১৬৭ রানের পাশাপাশি ডসনের চার উইকেটের সুবাদেই ইংল্যান্ড ৫৫ রানের জয় তুলে নেয়। তবে মূল প্রশ্ন থেকে যায়, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ব্রুকের অধীনে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা ইংল্যান্ড দলের হয়ে গত ১৮ মাসে একসঙ্গে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হওয়া সত্ত্বেও রশিদ ও ডসনকে কি ওয়ানডেতে একসঙ্গে খেলানো যেত না?

পরিস্থিতি অনুযায়ী বলের গতি ও বাতাসে নিখুঁত ফ্লাইট দেওয়ার যে সক্ষমতা রশিদের রয়েছে, তা কন্ডিশন প্রতিকূল হলেও কার্যকর হতে পারত। বিশেষ করে মধ্য ও শেষ ওভারগুলোতে প্রতিপক্ষের রানের গতি টেনে ধরা কিংবা টেলএন্ডারদের দ্রুত গুটিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে রশিদের কবজির মোচড় ও গুগলি দারুণ সহায়ক হতে পারত। সামনের মাসে অস্ট্রেলিয়ায় তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ রয়েছে ইংল্যান্ডের। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৫০ ওভারের ফরম্যাটে রশিদের চমৎকার অতীত রেকর্ড রয়েছে এবং সেখানে চার বছর আগের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতিও তাজা। ফলে অস্ট্রেলিয়া সফরে রশিদকে ফেরানোই হবে অন্যতম প্রধান কৌশলগত পদক্ষেপ।

### স্যাম কারানের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ইংল্যান্ডের এই সফরে আরেকটি বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল অলরাউন্ডার স্যাম কারানের ছন্দহীনতা। কুঁচকির অস্ত্রোপচারের পর দলে ফেরা কারান শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঐতিহাসিক রান তাড়ায় ১০৩ রান দিয়ে বসেন। অভিষেক হওয়ার আট বছর পরও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কারানের ভূমিকা কিছুটা অমীমাংসিত রয়ে গেছে। একসময় বল হাতে কার্যকর এবং টেলএন্ডে ক্যামিও দেওয়া এই অলরাউন্ডারকে এখন খেলানো হচ্ছে বেন স্টোকসের মতো এমন একজন মিডল-অর্ডার ব্যাটার হিসেবে, যার পুরো ১০ ওভার বোলিং করার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে এক বছর আগে ৫০ ওভারের দলে ফেরার পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি কোনো ফিফটির দেখা পাননি। পাকিস্তানের মাটিতে তিনি ভালো শুরুর আভাস দিলেও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া সফরে কারানের জন্যও ঘুরে দাঁড়ানোর বড় পরীক্ষা, কারণ সেই অস্ট্রেলিয়াতেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১১.৩৮ গড়ে ১৩ উইকেট নিয়ে তিনি টুর্নামেন্ট সেরা হয়েছিলেন।

যদিও টুর্নামেন্টের ফাইনাল মিস করা আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে ইংল্যান্ডের জন্য একটি বাড়তি প্রস্তুতি ম্যাচের সুযোগ নষ্ট করেছে, তবুও আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। ইংলিশদের টপ-অর্ডার ব্যাটিং দারুণ ফর্মে রয়েছে এবং চার শতাধিক রান সংগ্রহ করা এখন তাদের নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। সামনের অস্ট্রেলিয়া সফরে বিশ্রাম কাটিয়ে ফিরছেন পেস আক্রমণের প্রাণভোমরা জোফরা আর্চার। তার সঙ্গে তরুণ পেসার জশ টাংয়ের উপস্থিতি পেস আক্রমণকে ধারালো করবে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ ওভারে পরপর দুই বলে স্টাম্প ভেঙে যিনি রোমাঞ্চ জাগিয়েছিলেন, সেই টাংকে আর্চারের সঙ্গী হিসেবে দেখা গেলে বোলিং বৈচিত্র্য নিশ্চিতভাবেই বাড়বে। এছাড়া একাদশে জ্যাকব বেথেলকে জায়গা দিতে টম ব্যান্টনকে উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্ব দিয়ে জর্ডান কক্সকে বাইরে রাখার ভাবনাও রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো কঠিন সফরের মধ্য দিয়েই ইংল্যান্ড তাদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতির আসল হোমওয়ার্ক সম্পন্ন করার সুযোগ পাবে।

প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন:
WhatsApp Facebook X (Twitter)